ঢাকা | বঙ্গাব্দ

৭ গ্রামের মানুষের ভরসা একটিমাত্র সাঁকো

  • প্রতিনিধির নাম : | নিউজটি দেখেছেনঃ 25146 জন
৭ গ্রামের মানুষের ভরসা একটিমাত্র সাঁকো ছবির ক্যাপশন:
ad728

মোঃ খলিলুর রহমান, সাতক্ষীরা :: ::
৬ বচর আগে ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে বিধ্বস্ত হয় সাতক্ষীরা আশাশুনির প্রতাপনগরের গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। যা আজও মেরামত হয়নি। সাত গ্রামের মানুষের চলাচলের প্রধান এই সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় ভাঙা স্থানে নির্মিত অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রবল জলোচ্ছ্বাসে প্রতাপনগরের গড়ইমহল সড়কের একটি বড় অংশ ধসে যায়। এরপর দীর্ঘ কয়েক বছর স্থানীয়রা নৌকায় যাতায়াত করলেও পরে ইউনিয়ন পরিষদ ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। বর্তমানে কুড়িকাহুনিয়া, সনাতনকাঠি, নাকনা, গোকুলনগর, গোয়ালকাটি ও শ্রীপুরসহ সাত গ্রামের হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র পথ এটি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ, বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও রোগীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই নড়বড়ে বাঁশ-কাঠের তৈরি সাঁকোটি ব্যবহার করছেন। বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি পিচ্ছিল হয়ে পড়লে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আম্পানে সব হারিয়ে ১১ মাস সাইক্লোন সেন্টারে ছিলাম। সব কষ্ট সহ্য করা যায়, কিন্তু সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছে। ভালো রাস্তা না থাকায় তারা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারছে না।’
আরেক বাসিন্দা হামিদ জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া দুরূহ হয়ে পড়েছে। ছোট শিশুদের স্কুলে পাঠাতেও টাকা দিয়ে নৌকা বা ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার করতে হয়।
নাকনা গ্রামের ডা. নিহার সরকার বলেন, ‘প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদ, স্কুল-কলেজ ও বাজারে যাওয়ার এটিই প্রধান স্থলপথ। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে এই জনপদ মূল ভূখণ্ড থেকে কার্যত বিচ্ছিন্নই থেকে যাবে।’
প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালী জানান, কুড়িকাহুনিয়ার কাঁঠালতলা থেকে মকবুল দোকানদারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৭০০ ফুট রাস্তা পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে। সেখানে কার্পেটিং রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হওয়া জরুরি।
আশাশুনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম জানান, রাস্তাটি ওয়াশ আউট হয়ে গভীর খাদ সৃষ্টি হওয়ায় সংস্কার কাজ বেশ ব্যয়বহুল। এলজিইডির বাজেট স্বল্পতার কারণে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে জনস্বার্থে সেখানে একটি অস্থায়ী ভাসমান সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত বরাদ্দ পেলে ভবিষ্যতে স্থায়ী সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে দীর্ঘ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাত গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। 
সাতক্ষীরা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম তারিকুল হাসান খান বলেন, অর্থ অভাবের কারণে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। সাতক্ষীরায় অনেক রাস্তার করুণ অবস্থা, এগুলো করার জন্য অনেক অর্থের বরাদ্দ প্রয়োজন। বেশি বেশি বরাদ্দ না হলে নতুন রাস্তা তৈরি এবং সংস্করণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : স্বদেশ সময়

কমেন্ট বক্স
সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, জনমনে আতঙ্ক

সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, জনমনে আতঙ্ক