ঢাকা | বঙ্গাব্দ

গাজীপুরে একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যা: গোপালগঞ্জে পাশাপাশি দাফন, ঘাতকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি

  • প্রতিনিধির নাম :মোঃ শিহাব উদ্দিন , গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি। | নিউজটি দেখেছেনঃ 8470 জন
গাজীপুরে একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যা: গোপালগঞ্জে পাশাপাশি দাফন, ঘাতকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি ছবির ক্যাপশন:
ad728
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় নিহতদের মরদেহ রোববার সকালে গোপালগঞ্জে নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে। 

এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত ফুরকান মিয়ার দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

রোববার বেলা ১১টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকান্দি গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পাঁচজনকে পাশাপাশি দাফন করা হয়। এর আগে সকাল ছয়টার দিকে নিহতদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। মরদেহ দেখতে আশপাশের এলাকা থেকে শত শত মানুষ ভিড় করেন।
নিহতরা হলেন—শারমিন বেগম (৩২), তাঁর ভাই রসুল মিয়া (২২), এবং শারমিনের তিন মেয়ে মীম (১৪), হাবিবা (১০) ও ফারিয়া (২)। তাঁদের সবার বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শারমিনের স্বামী ফুরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য, শনিবার সকালে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকান্দি গ্রামের একটি বাড়ি থেকে পাঁচজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার গভীর রাতে তাদের হত্যা করা হয়। পরে ভোরে ফুরকান মিয়া স্বজনদের ফোন করে হত্যার কথা জানানোর পর ঘটনাটি জানাজানি হয়।
নিহত শারমিনের মামা আরজ শেখ বলেন, “খবর পেয়ে আমরা গাজীপুরে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি নির্মমভাবে সবাইকে হত্যা করা হয়েছে। শারমিনকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে হত্যা করা হয়েছে। এই দৃশ্য ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমরা খুনি ফুরকানের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
শারমিনের মামাতো ভাই আবির শেখ বলেন, “আমার ফুফাতো বোন, ভাই ও তিন শিশুকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা সিনেমাকেও হার মানায়। দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
নিহত শারমিনের এক দুলাভাই বলেন, “আমরা গিয়ে যে অবস্থা দেখেছি, তাতে গা শিউরে উঠেছে। রসুলের মরদেহ খাটের ওপর ছিল, আর শিশুদের মরদেহ পড়ে ছিল মেঝেতে। আমরা জেনেছি, সেদিন রাতে বাসায় গোশত ও পায়েস রান্না হয়েছিল। ধারণা করছি, খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে সবাইকে অচেতন করে হত্যা করা হয়েছে।”
এ ঘটনায় নিহত শারমিন বেগমের বাবা সাহাদত মোল্লা কাপাসিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ফুরকান মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “নিহত শারমিনের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ঘাতক ফুরকানকে গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”

নিউজটি পোস্ট করেছেন : স্বদেশ সময়

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ