Logo
প্রিন্টের তারিখ: 03 August 2026 | প্রকাশের তারিখ: Aug 3, 2026

News Headlines : সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে শ্রীমঙ্গলে এক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মীর সংবাদ সম্মেলন

সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে শ্রীমঙ্গলে এক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মীর সংবাদ সম্মেলন

দেওয়ান মাসুকুর রহমান 
নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল উপজেলা  (মৌলভীবাজার), ২২ মে ২০২৬ : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুটি চেক জালিয়াতি মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মো. জয়নাল আবেদীন বাদশা নামে এক ক্ষুদ্র গণমাধ্যমকর্মী ও মানবাধিকারকর্মী।

শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গলের টি ভ্যালি পার্টি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় সাংবাদিক, সুধীজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে জয়নাল আবেদীন বাদশা বলেন, তিনি দীর্ঘ প্রায় সাত বছর ধরে স্থানীয় সামাজিক সমস্যা, মানবাধিকার ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করছেন। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে তার গ্রামের বাসিন্দা মাসুক মিয়া অভিযোগ করেন, ভারতীয় চিনি ব্যবসার কথা বলে তিনি কথিত মাহবুব মুর্শেদ নামের একজনের ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করেছি।

তিনি দাবি করেন, পরে বিষয়টি নিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তার কাছ থেকে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের দুটি স্বাক্ষরিত চেক নেওয়া হয় এবং একটি লিখিত চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। চেক দুটি হলো— ৮১৩৪৫৭১ ও ৮১৩৪৫৭২।

পরবর্তীতে ওই চেকের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আদালতে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাগুলো হলো— জিআর ২৫৫/২০২৪ (দায়রা নং-৫৮১/২০২৪) এবং জিআর ২৫৬/২০২৪ (দায়রা নং-৫৮২/২০২৪)।

জয়নাল আবেদীন বাদশা আরও বলেন, মামলা চলাকালে আদালতের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব যাচাই করা হলে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জানায়, উল্লিখিত হিসাব নম্বরটির অস্তিত্ব শ্রীমঙ্গল শাখায় পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে মামলাদ্বয়ের রায় ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় তাকে এক মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড এবং অপর মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড ও ১৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। বর্তমানে তিনি উচ্চ আদালতে আপিলের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ শ্রীমঙ্গলে যাওয়ার পথে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আটক করে হবিগঞ্জ রোডের একটি গ্যারেজে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং তার মোবাইল ফোন ও সঙ্গে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলেও দাবি করেন তিনি।

এছাড়া তার স্ত্রীর অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তাকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার পর তার স্ত্রীকে আটকে রেখে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় এবং তার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, নগদ ২৫ হাজার টাকা ও প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জয়নাল আবেদীন বাদশা বলেন, তিনি দেশের বিচারব্যবস্থা ও আদালতের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখেন। উচ্চ আদালতে মামলার নথিপত্র, ব্যাংক প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তার ও তার স্ত্রীর উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
All Rights Reserved By Shadin Ekattor News
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF