ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কুলাউড়া থানায় ঘুষ দিতে গিয়ে যুবকসহ আটক ২

  • প্রতিনিধির নাম :, প্রতিবেদক |মৌলভীবাজার | নিউজটি দেখেছেনঃ 36926 জন
কুলাউড়া থানায় ঘুষ দিতে গিয়ে যুবকসহ আটক ২ ছবির ক্যাপশন:
ad728
মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপারকে (এসপি) ঘুষ দিতে গিয়ে মইনুল ইসলাম চৌধুরী সামাদ নামের এক যুবক ও জেসমিন আক্তার নামের এক নারী আটক হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে কুলাউড়া থানায় তাদের আটক করা হয়।

আটক সামাদ কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আতিকুর রহমান চৌধুরীর ছেলে ও স্থানীয় চৌধুরী বাজারের ব্যবসায়ী। অন্যদিকে জেসমিন আক্তার হলেন রাউৎগাঁও ইউনিয়নের আব্দুলপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত তাহির আলীর মেয়ে।

পুলিশ সূত্র জানায়, কুলাউড়ার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা মাহতাব মিয়ার সঙ্গে তালাকপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্ত্রী জেসমিন আক্তারের পারিবারিক বিষয় নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। স্বামীকে নাজেহাল করতে ইতঃপূর্বে জেসমিন আক্তার তার মেয়েকে মাহতাব মিয়া ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ তোলেন। এমনকি নানা ছলচাতুরীর আশ্রয় নেন। বর্তমানে তার স্বামী বিদেশ যাবার খবর শুনে স্বামী যাতে বিদেশ না যেতে পারে সে জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে নগদ দুই লাখ টাকাসহ ব্যবসায়ী সামাদ চৌধুরীকে নিয়ে থানায় আসেন।

ওইসময় থানায় চলছিল সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমানের দ্বি-বার্ষিক পরিদর্শন। পরিদর্শনের সময় মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) মো. আজমল হোসেন, কুলাউড়া থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্যা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় জেসমিন আক্তার তার স্বামীর বিদেশ যাওয়া বন্ধ করার জন্য সামাদ চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করেন। একপর্যায়ে সামাদ চৌধুরী কৌশলে জেসমিন আক্তারের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে সেখান থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা সরিয়ে ৪০ হাজার টাকা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে দিতে যান।

এসময় জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে সামাদ ও জেসমিনকে টাকাসহ আটক করে পুলিশ। এ ঘটনার খবর জানাজানি হলে কুলাউড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্যা বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আটক সামাদ ও জেসমিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। শুক্রবার তাদের আদালতে প্রেরণ করা হবে।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় মুঠোফোনে বলেন, কুলাউড়া থেকে জেসমিন আক্তার নামের এক মহিলা বেশ কয়েকদিন থেকে আমার সঙ্গে দেখা করার জন্য মোবাইল ফোনে কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার সকালে সে মৌলভীবাজার আমার অফিসে এসে দেখা করতে চাইলে আমি তাকে কুলাউড়া থানায় এসে দেখা করতে বলি। ডিআইজি মহোদয়ের দ্বি-বার্ষিক পরিদর্শন শেষে ওই মহিলা সামাদ নামে এক যুবককে নিয়ে আমার সঙ্গে তার সমস্যার কথা বলেন। কথা বলার শেষে একপর্যায়ে সামাদ আমার হাতে একটি খাম দিলে সেটি খুলে দুই শত টাকার দুই বান্ডিল নোট দেখতে পেয়ে আমি সঙ্গে সঙ্গে তাকে টাকাসহ আটক করাই। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : স্বদেশ সময়

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
হাইমচরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: হত্যা না আত্মহত্যা? সুষ্ঠু

হাইমচরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: হত্যা না আত্মহত্যা? সুষ্ঠু